ভ্রান্ত তত্ত্বঃ একটি পাপময় জীবনের বিনিময়ে অনন্তকাল নরক বাস?
(সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম )
(সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম )
পৃথিবীর কিছু কিছু ধর্ম-সম্প্রদায়ে এই মত প্রচলিত রয়েছে যে জীবন একটিই, এবং এই জীবন সৎকর্ম করে অতিবাহিত করলে অনন্ত কালের জন্য স্বর্গ-বাস লাভ হয়, আর পাপকর্মে অতিবাহিত করলে অনন্ত কালের জন্য নরকের অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হতে হয়, যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এটি কেবল ধর্মীয় মতান্ধতা ছাড়া কিছুই নয়, কেননা জীবন একটি নয়; জীবন একটি হলে পৃথিবীতে বিভিন্ন জীবনের যে অসাম্য রয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না, বিধাতা পক্ষপাত-দুষ্ট হয়ে পড়েন; তাছাড়া কেউ সম্পূর্ণভাবে পাপী নয়, আবার পরিপূর্ণভাবে সৎকর্মকারীও খুবই বিরল; সুতরাং তাদের পুণ্য ও পাপের ফল লাভ ঘটবে কিভাবে? স্পষ্টতঃই, সংবেদনশীল, ভগবৎ-সচেতন মানুষের কাছে এই ধরণের চরম বিচারের ব্যবস্থাটিকে ঈশ্বরীয়র থেকে বরং আসুরিক ধরণের মনে হয়। এটা কি সম্ভব যে মানুষও যখন অন্যদের প্রতি করুণা, দয়া প্রদর্শন করে থাকে, তখন ভগবানের মধ্যে এইরকম অনুভূতি নেই, তিনি নিষ্করুণ? ভগবান ও তাঁর নিজ অবিচ্ছেদ্য অংশ জীবসমূহের মধ্যে যে শাশ্বত প্রেমের বন্ধন রয়েছে, ঐসব অযৌক্তিক ধর্মীয় শিক্ষা তার পরিপন্থী। সংজ্ঞানুসারে (মানুষ ঈশ্বরের অনুরূপে তৈরী- ম্যান ইজ মেড ইন দ্য ইমেজ অব্ গড), সমস্ত গুণাবলী ভগবানের মধ্যে পূর্ণতার পরম মাত্রা পর্যন্ত থাকতে হবে। এর মধ্যে একটি গুণ হচ্ছে করুণা। একটি সংক্ষিপ্ত মানব জীবনের শেষে অনন্ত কাল নরকে দগ্ধ হওয়ার এই ধারণা অত্যন্ত করুণার অধিকারী একজন পুরুষের ধারণার সঙ্গে আদৌ সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এমনকি একজন সাধারণ পিতাও তার পুত্রের জীবনকে সুন্দর করার জন্য ঐ পুত্রের অনেক ভুল ক্ষমা করেন, একাধিক সুযোগ তাকে দিয়ে থাকেন।
ভগবান পূর্ণ, সুতরাং তাঁর গুণাবলীও পূর্ণ। এরকম একটি গুণ হচ্ছে তাঁর করুণা। ভগবান পরম করুণাময়, সেজন্য কোনো জীবকে তিনি অনন্ত নরকবাসের শাস্তি দিতে পারেন না। বৈদিক শাস্ত্রে বার বার ভগবানের করুণাপরতার কথা বলা হয়েছে। ভগবান প্রত্যেক জীব-হৃদয়ে অবস্থান করেন, এবং তাদের সমস্ত আকাঙ্ক্ষার কথা জানেন; সেজন্য তাদের উপলব্ধির বিকাশের জন্য তিনি তাদের ঐসব আকাঙ্ক্ষাগুলি চরিতার্থ করার সুযোগ দেন। প্রকৃতপক্ষে, ভগবানের করুণার কোনো অবধি নেই, শ্রীকৃষ্ণ আমাদের সুহৃদ, প্রত্যেক জীবাত্মাকে তিনি ভালবাসেন, তাই তিনি অসীম করুণাময়। আমাদের যোগ্যতা না থাকলেও তিনি আমাদের বার বার সুযোগ দান করেন যাতে আমরা আত্মোপলব্ধির স্তরে উপনীত হই, জন্ম-মৃত্যুর চক্র হতে অব্যহতি লাভ করি।
পুনর্জন্মের তত্ত্ব অনুসারে, এমনকি একজন কুক্রিয়াসক্ত ব্যক্তিও যদি সামান্য একটুও সৎকর্ম করেন, শ্রীকৃষ্ণ তা বিস্মৃত হন না, তিনি তা সঞ্চিত রাখেন। কেউই সম্পূর্ণতঃ একশো ভাগ পাপী নয়। তেমনি কোন জীবাত্মা যদি সামান্য একটুও পারমার্থিক উন্নতি করে, সেটি ধ্বংস হয় না; পরজন্মে তাকে আরো পারমার্থিক উন্নতি করার জন্য অধিকতর উন্নত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়, যাতে করে সে তার অন্তর্নিহিত চিন্ময় গুণাবলী বিকশিত করার সুযোগ পায়। এভাবে ভগবৎচেতনা লাভ করলে তার আর জড় দেহের প্রয়োজন হয় না, সে শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় চিন্ময় জগতে তার নিত্য আলয়ে ফিরে যায়।।
হরেকৃষ্ণ,,,,,,,,,,,
হরেকৃষ্ণ,,,,,,,,,,,

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন