সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মনুষ্য জনম

পদ্মপুরাণ মতে-“চুরাশী লক্ষ যোনীতে জন্মের পর মানুষ জন্ম”
ভাবনা :– আমরা সবাই জানি পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সঞ্চার হয়ে ছিল জলে এক কোষী এমিবা রূপ নিয়ে, এই সমগ্র জলচর জীবের রূপ হল – নয় লক্ষ,
এক কোষী জলচর জীব বিভিন্ন রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে গিয়ে যখন ঐ জলচরের জীবেদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রূপে পূর্ণতা লাভ করে তখন ঐ জীবের জল জীবন থেকে মুক্তি ,এবার ঐ আত্মা জলকক্ষ পথ ছেড়ে প্রবেশ করে “বৃক্ষকক্ষ পথে” -কুড়ি লক্ষ রকম বৃক্ষজীবনে রূপ পরিবর্তন হতে হতে বৃক্ষজগতের শ্রেষ্ঠরূপ লাভের পর ঐ আত্মা এবার প্রবেশ করে “কীটকক্ষ পথে” – এগারো লক্ষ রকম কীটজীবনে রূপান্তর হতে হতে কীটজগতে শ্রেষ্ঠরূপ লাভের পর ঐ আত্মা এবার প্রবেশ করে “পক্ষীকক্ষ পথে”-দশ লক্ষ রকম পক্ষীজীবনে রূপান্তর হতে হতে পক্ষীজগতে শ্রেষ্ঠরূপ লাভের পর ঐ আত্মা এবার প্রবেশ করে “পশুকক্ষ পথে”-ত্রিশ লক্ষ রকম পশুজীবনে রূপান্তর হতে হতে পশুজগতে শ্রেষ্ঠরূপ লাভের পর ঐ আত্মা এবার প্রবেশ করে” মানুষকক্ষ পথে”–চার লক্ষ রকম মানুষজীবনে রূপান্তর হতে হতে মানুষের জগতে শ্রেষ্ঠরূপ লাভের পর অর্থাত্ ঐ আত্মাটির পরমাত্মায় বিলীন হয়ে গিয়ে স্থায়ী “মুক্তি” লাভ করে ,ঐ আত্মার আর পূর্নজন্ম হয়না ,জন্মমৃত্যুর কক্ষপথে আর থাকতে হয় না ,আর কোন ক্লেশ যাতনা বহন করতে হয় না ,কমপ্লিট “”আনন্দ”” পূর্ণ মানব ” মানবত্বে প্রতিষ্ঠিত “মহাত্মা” হয়ে যান | শাস্ত্রে একেই বলে ” দেবত্ব লাভ “বা “ঈশ্বরত্ব লাভ” |
মানুষের প্রথম জন্মও মাতৃগর্ভে জলেই হয় খুব সূক্ষ ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে দশমাস দশ দিনে এবং জন্মের এক বছরের মধ্যে আমরাও ঐ (9+20+11+10+30+4)=84 লক্ষ স্তর পার হয়ে চলে আসি :- তাই আমাদের মধ্যে ঐ 84 লক্ষ ধরনের বৃত্তি / সংস্কার বিরাজ করে কারন ঐ জীবন পার হয়েই তো এসেছি| তাই আসুন মানুষের দেহ পেয়ে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে জীবনের “শ্রেষ্ঠত্ব” কে অর্জন করি | সার্থক হোউক এই মানব জন্ম |

মন্তব্যসমূহ