সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কৃষ্ণ কথা


শাস্ত্রনুসারে ভগাবন শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা ছাড়া একটি তৃণও নড়ে না।তার মানে আমাদের সমস্ত কর্মও তার ইচ্ছাতেই হচ্ছে।তাহলে কর্মফল আমাদের ভুগতে হবে কেন ??
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অধ্যক্ষতায় প্রকৃতির দ্বারা সমগ্র ক্রিয়াকলাপ পরিচালিত হলেও আমাদের জন্য শ্রীকৃষ্ণ স্বতন্ত্র ইচ্ছা শক্তি দান করেছেন।এবং সেই ইচ্ছা অনুসারে আমরা জীবন গঠন করতে পারি।আমাদের কিভাবে জীবন গঠন করতে হবে সেই সব নির্দেশও দিয়েছেন।অর্থাৎ এমন নয় যে,আমি পাগলের মতো যা ইচ্ছা তাই করে চলব,আর মনে করতে থাকব যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাতেই আমি সব কিছু করছি।না !! এরূপ মনে করা কখনই ঠিক নয়।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জনকে বলছেন,হে রাজন !! আমি তোমাকে ভালোমন্দ সব কিছুই বললাম,এখন তোমার যা ইচ্ছা হয় তাই কর।তুমি আমার কথামতো যুদ্ধ করতে পার,কিংবা আমার কথা এড়িয়ে নিজের মতে চলতে পার।সেটি তোমার ইচ্ছা !!
আমরা যদি কৃষ্ণানুগামী হই তবে আমরা জোর দিয়েই বলতে পারব যা কিছু হচ্ছে সবই কৃষ্ণকৃপা।কিন্তু যদি কৃষ্ণবিমুখ-স্বভাব হই,তবে আমাদের সব কর্মের ফল ভোগ করতে আমরা বাধ্য হব এবং এই জন্ম-মৃত্যুর সংসার চক্রে ঘুরপাক খাব।
শ্রীকৃষ্ণসংহিতা ( ২/২০-২১) শাস্ত্রে বলা হয়েছে ,,
স্বাতন্ত্র্য বর্তমানেহপি জীবানাং ভদ্রকাঙ্ক্ষিণাম্।
শক্তয়োহনুগতাঃ শশ্বৎ কৃষ্ণেচ্ছায়াঃ স্বভাবতঃ।।
যে তু ভোগরতা মূঢ়াস্তে স্বশক্তিপরায়ণাঃ।
ভ্রমন্তি কর্মমার্গেষু প্রপঞ্চে দুর্নিবারিতে।।
অর্থাৎ ,, প্রত্যেক জীবকে ভগবান স্বাতন্ত্র্য প্রদান করেছেন।তারা নিজ নিজ ইচ্ছা অনুসারে পরিচালিত হওয়ার সীমিত স্বাধীনতা লাভ করেছে।যারা মঙ্গল আকাঙ্ক্ষী,তাদের স্বতন্ত্র ইচ্ছাশক্তি স্বভাবতই শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছার অনুগত থাকে।আর,যারা কেবল ভোগ আকাঙ্ক্ষী, হিতাহিত-জ্ঞানহীন তাদরে ইচ্ছাশক্তি ভগবানের ইচ্ছাশক্তির অনুগত হয় না।তারা চিৎশক্তি বিরোধী হয়ে জগতে বিচরণ করে থাকে।তারা এই প্রপঞ্চকে ( জড় জাগৎকে) আশ্রয় করে দুর্নিবারভাবে কর্মমার্গে ভ্রমণ করতে থাকে।
আমরা কৃষ্ণবহির্মুখ মানসিকতার ফলেই এই জড় জগতে পতিত হয়ে নানাবিধ কর্মফলে সুখ দুঃখ ভোগ করছি।আমাদের স্বতন্ত্র ইচ্ছাকে যদি কৃষ্ণ-উন্মুক্ত করি তবে কৃষ্ণকৃপায় আমরা জড়জাগতিক সমগ্র সুখ-দুঃখ পাপ-পুণ্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিত্য আনন্দময় জীবনে পৌছতে পারবো।সেটাই করে চলতে হবে।তাই বলা হয়েছে ,,যেন তেন প্রকারেণ কৃষ্ণে মনঃ নিবেশয়ঃ।যে কোনওভাবেই হোক ,,আমাদের মনটাকে কৃষ্ণপাদপাদ্মে নিয়োজিত করতে হবে।এই কর্তব্যটুকু এড়িয়ে গিয়ে অন্যান্য উদ্ভট কারণ দেখিয়ে আমি যা করছি ভগবানই করাচ্ছেন ,, কিংবা আমি সেদিনই ভগবানকে ডাকব যেদিন ভগবান আমাকে কৃপা করবেন,আমি নতুবা ডাকতেই পারিনা।এই রকমের কথার অর্থই হচ্ছে আপন দোষ বাদ দিয়ে ভগবানকে দোষারোপ করা। ভগবান নিজে এসে আমাকে তোষামোদ করুক, তা হলে আমি সাড়া দিতে পারি।এটি হচ্ছে অভক্তের প্রলাপ।আমরা যদি আমাদের জীবনের মঙ্গল চাই, তবে আমাদের ইচ্ছা শক্তিকে শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছার অনুগামী করতে হবে।
শ্রীকৃষ্ণ চান ,, মন্মনা ভব মদ্ভক্ত।আমাতে মন রাখ, আমার ভক্ত হও।অতএব আমাদের তার প্রতি মন রেখে ভক্তি-নিষ্ঠায় যুক্ত হতে হবে।তাহলে ভক্তের দায়িত্ব তার উপর বর্তাবে।

মন্তব্যসমূহ