"হরিদাস ঠাকুর অদ্বৈত আচার্যের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং অদ্বৈত আচার্য তাঁকে সেখানে পেয়ে খুবই খুশি হয়েছিলেন। অদ্বৈত গোসাই তাঁর পিতা-মাতার শ্রাদ্ধ বা মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন যেখানে তারা কিছু যজ্ঞ করেন এবং ধর্মীয় রীতি পালন করেন যার মাধ্যমে তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এক বিশাল বড় ভোগ নিবেদন করেছিলেন। এটাই প্রথা যে সেখানে উপস্থিত সবচেয়ে প্রবীণ ভক্ত বা ব্রাহ্মণকে সর্বপ্রথম মহাপ্রসাদ প্রদান করতে হয়। ভগবান কৃষ্ণকে ভোগ নিবেদন করার পর এখন অদ্বৈত ঠাকুরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি কাঁকে প্রথম মহাপ্রসাদ নিবেদন করবেন, ঠিক যেমন রাজসূয় যজ্ঞের পর পান্ডবদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল যে কাঁকে তাঁরা প্রথম অর্ঘ্যটি প্রদান করবেন। আর সেসময়, সহদেব বলেছিলেন যে, এটা কৃষ্ণকে নিবেদন করা উচিত, কৃষ্ণই পরমেশ্বর ভগবান। তখন শিশুপাল দাড়িয়ে বলে উঠল যে, "না, কৃষ্ণ মোটেই এরকম না, কৃষ্ণ 'এমন', কৃষ্ণ 'তেমন', কৃষ্ণকে এটি দিবে না। সে তো একটা গোয়ালা, সে কী জানে?" এবং এভাবে সে এত উপহাসমূলক নিন্দা করতে লাগল যে পরিশেষে কৃষ্ণের সুদর্শন চক্র তাঁর হাত থেকে এসে তার শিরোচ্ছেদ করেছিল। এখন, অদ্বৈত গোসাই বিবেচনা করে দেখলেন যে, "প্রথম নৈবেদ্যটি হরিদাস ঠাকুরকেই আমার প্রদান করা উচিত।" হরিদাস ঠাকুর এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন কৃষ্ণের একজন শুদ্ধ ভক্ত। তাই অদ্বৈত গোসাই দেখলেন যে, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ, তিনিই ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি। তিনি সমস্ত বর্ণ এবং আশ্রমের আচার্য। কিন্তু তখন কিছু ব্রাহ্মণ আপত্তি জানিয়ে বললেন যে, কীভাবে আপনি হরিদাস ঠাকুরকে প্রথম নৈবেদ্য দিতে পারেন। তিনি ব্রাহ্মণ নন, মানে, তিনি তো জন্মগতভাবে ব্রাহ্মণ নন। আর তখন অদ্বৈত গোসাই বললেন, "বেশ, তবে পরীক্ষা করে দেখা যাক যে, এখানে প্রকৃত ব্রাহ্মণ কে?”
বেদ অনুসারে, প্রকৃত ব্রাহ্মণেরা যখন কাঠের ওপর শ্বাস ফেলেন, তখনই আগুন জ্বালাতে পারেন। মন্ত্রের দ্বারা তারা কাঠে অগ্নি প্রজ্বলিত করতে পারেন। আপনারা জানেন যে, তারা যখন কাঠ দিয়ে যজ্ঞ করত, তখন দিয়াশলাই না ঘষে বা লাইটার ব্যবহার না করে তারা কেবল মন্ত্র উচ্চারণ করে আগুন জ্বালাতেন। এবং তারা সকলে এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করলেন। প্রত্যেক ব্রাহ্মণের সামনে জ্বালানি কাষ্ঠ রাখা হল। তারা এগিয়ে আসলেন এবং জ্বালানি কাষ্ঠে ফুঁ দিলেন, কিন্তু সেখানে কোনো শিখা দেখা গেল না, মূলত কোন অগ্নিই বের হল না!
তারপর অন্যজন, তিনি জ্বালানি কাঠ সাজালেন ও অগ্নি মন্ত্র বললেন এবং বাতাস দেবার চেষ্টা করলেন কিন্তু কিছুই হল না। এভাবেই সেটি সম্পূর্ণ সভা ঘুরে এল এবং সকলেই রেগে যাচ্ছিলেন এবং ফুঁ দিচ্ছিলেন, কিন্তু সেখানে কোন আগুনই জ্বললো না। এরপর তারা হরিদাস ঠাকুরের সামনে জ্বালানি কাঠ নিয়ে এলেন এবং তিনি হরিনাম জপ করলেন এবং জ্বালানি কাঠের উপর শ্বাস ফেললেন এবং ফুঁ! আগুন জ্বলে উঠল! সবাই অবাক হয়ে গেল। অদ্বৈত গোসাই তখন বললেন, এই হল ব্রাহ্মণ। এবং তাই তিনি প্রসাদের প্রথম পাত্রটি হরিদাস ঠাকুরকে প্রদান করলেন।
সুতরাং প্রকৃত আচার্য সকল বর্ণ এবং আশ্রমেরই আচার্য। যে ব্যক্তি প্রকৃতই সদগুরুর ক্ষমতাপ্রাপ্ত, তিনি যদি এমনকি একজন গৃহস্থও হন, তিনি একজন সন্ন্যাসীর গুরুদেব হতে পারেন অথবা এর বিপরীতও হতে পারে। এটি কোন বাহ্যিক বা জাগতিক গুণাবলীর উপর নির্ভর করে না, বরং এটি একটি চিন্ময় কৃপা যা পূর্বতন আচার্যদের থেকে প্রাপ্ত। যেহেতু শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের নির্দেশনাবলী অত্যন্ত বিনম্রতার সাথে এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে গ্রহণ করেছিলেন, সেকারণে তিনি সারা পৃথিবীতে এই আন্দোলনটি ছড়িয়ে দেবার ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছিলেন।"
~শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ,
হরেকৃষ্ণ
উত্তরমুছুনপ্রনাম প্রভু