"রাধারাণী হলেন শক্তি। তিনি সর্বশক্তি। সমস্ত শক্তি তাঁর থেকে আসে। এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে সমস্ত গোপীদের, দ্বারকার রাণীদের এবং বৈকুণ্ঠের লক্ষ্মীগণের উৎস। তো কৃষ্ণ সর্বশক্তিমান বলে পরিচিত; তিনি সমস্ত শক্তির অধিকারী। এবং রাধারাণী হলেন সর্বশক্তি। তো তিনি কৃষ্ণের দ্বারা অধিকৃত। কৃষ্ণ প্রত্যেককে আকর্ষণ করেন। তাই তাঁর নাম কৃষ্ণ, সর্বাকর্ষক আনন্দের উৎস; কিন্তু রাধারাণী কৃষ্ণকেও আকর্ষণ করতে সমর্থ। তাই তাঁর বিশেষ গুণাবলি রয়েছে। রাধারাণী কৃষ্ণের মাঝে সর্বোৎকৃষ্ট সম্পূর্ণ প্রেমের বিনিময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন। তো তিনি এক ছিলেন; তিনি আরও লীলা বিস্তার করতে দুই হলেন কিন্তু চিন্ময় জগতে সবকিছুই ব্যাক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট। সমস্ত শক্তি, সমস্তকিছু, সবকিছু। এমনকি বৃক্ষ, প্রাণি, পাখি, মৌমাছি, তারা সকলে কথা বলে.. তারা সকলে ব্যক্তি। এবং পরম ব্যক্তিটি হলেন কৃষ্ণ, কিন্তু তাঁর পরম শক্তি হলেন রাধা।
প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করছিলেন কীভাবে ভরত মহারাজ সমগ্র বিশ্বের রাজা ছিলেন, কীভাবে তিনি সবকিছু ত্যাগ করে বনে চলে গেলেন? কেন? পারমার্থিক আনন্দের সন্ধানে। এবং সেই পারমার্থিক আনন্দ কী? রাধারাণী। তিনিই চিন্ময় আনন্দ শক্তি। কীভাবে শুকদেব গোস্বামী অনবধানতাবশতঃ রাধারাণীর নাম উল্লেখ করেছেন। সমস্ত আচার্য এর দ্বারা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছেন। তিনি এটি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অন্তিমে তিনি পারেননি। এবং তিনি সজোরে রাধারাণীর মহিমাকীর্তন করতে শুরু করলেন; কীভাবে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক বিনিময়ের বিভিন্ন পদ্ধতির দ্বারা কৃষ্ণকে তাঁর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ। বর্ষণার নিকটে একটি স্থানে কৃষ্ণ এবং রাধা একটি দোলনায় ছিলেন এবং একটি মৌমাছি রাধারাণীকে বিরক্ত করছিল। তো কৃষ্ণ মধুমঙ্গলকে বললেন, "মৌমাছিটিকে তাড়াও।" এবং তখন মধুমঙ্গল মৌমাছিটিকে তাড়িয়ে দিলেন। এবং তিনি বললেন, "মধুসূদন চলে গেছে।" তো মধুসূদন মানে যে মধু আহার করে; মধু-সূদন। কিন্তু এটি কৃষ্ণেরও একটি নাম, মধুসূদন। তো যখন মধুমঙ্গল বললেন, "মধুসূদন চলে গেছে" রাধারাণী তৎক্ষণাৎ বিরহ অনুভব করলেন এবং তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি এতটাই প্রগাঢ়ভাবে কাঁদছিলেন যে, কৃষ্ণ তাঁর নিকটেই বসেছিলেন। কৃষ্ণ বললেন, "আমি এখানে। আমি এখানে।" কিন্তু তিনি দেখতে পারছিলেন না, কেননা তিনি কাঁদছিলেন; যখন কৃষ্ণ দেখলেন তিনি তাঁকে কতটা ভালোবাসেন তিনি না কেঁদে পারলেন না; তিনিও কাঁদলেন। এবং দুজনে কেঁদে কেঁদে সমগ্র হ্রদটিকে তাঁদের চোখের জলে পূর্ণ করলেন; হ্রদটিকে প্রেম সরোবর বলা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, যদি আপনি আপনার মাথায় সেই সরোবরের অল্প একটু জলও নেন, আপনি কৃষ্ণপ্রেম পাবেন।
তো কতজন প্রেম সরোবর দেখেছেন? প্রভুদের চেয়ে মাতাজীর সংখ্যা বেশি। হয়তো সেজন্য তাঁদের অধিক প্রেম আছে। তো বর্ষণাতেও আমরা দেখি যে, রাধারাণী এবং একদল গোপী ময়ূর নৃত্য দেখছিলেন। এবং কৃষ্ণ বললেন, "বেশ, কেন তোমরা আমাকে দেখছ না! কেন তোমরা একটি ময়ূরকে দেখছ? তাঁরা বললেন, "তুমি নৃত্য করছ না। ময়ূর নৃত্য করছে। তো তখন কৃষ্ণ গেলেন এবং ময়ূরের পাশে নৃত্য করলেন। তো তিনি বললেন, "কেমন হয়েছে?" আর রাধারাণী বললেন, "বেশ, ঠিক আছে। কিন্তু ময়ূর উত্তম ছিল।" (গুরুদেব এবং ভক্তেরা হাসলেন।) তারপর কৃষ্ণ আরও নৃত্য করলেন। এবং তিনি বললেন, "কেমন হল?" তারপর রাধারাণী বললেন, "বেশ, প্রায় সমপর্যায়; তবুও প্রকৃতপক্ষে উত্তম নয়।" এবং তারপর কৃষ্ণ নৃত্য করলেন... তিনি আসলেই নৃত্য করলেন! কোন বাধা ছাড়াই... তিনি এমন একটি উপায়ে নৃত্য করলেন যে রাধারাণীও উঠে পড়লেন এবং তিনি সেখানে নৃত্য করলেন। ময়ূর এবং ময়ূরী।
তো বর্ষণায় একটি ছবি আছে, যা একজন অন্ধ শিল্পী কর্তৃক অঙ্কিত হয়েছে। একজন অন্ধ শিল্পী... কীভাবে একজন অন্ধ শিল্পী আঁকতে পারে? এটি নিজেই অদ্ভুত! কিন্তু সেখানে এটি প্রদর্শিত হয় যে কৃষ্ণ এবং রাধা নৃত্যরত। তো প্রতিদিন তাঁদের লীলা হত। এবং এভাবে কৃষ্ণ বৃন্দাবনে অত্যন্ত সুখী ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি বলেছেন, তিনি কখনোই বৃন্দাবন ছেড়ে যান না। তো চিন্ময় জগতে যে প্রেম বিনিময় হয় কৃষ্ণ দেখেন যে ভক্তেরা তাঁকে তাঁর চেয়ে অধিক ভালোবাসেন, এবং অধিক আনন্দ, অধিক প্রফুল্লতা... তো প্রতিটি ভাবে তিনিই সর্বদা পরম পুরুষ, কিন্তু যখন সুখের কথা আসে, ভক্তেরা তাঁর চেয়ে অধিক সুখী! তিনি অত্যন্ত সুখী, কিন্তু ভক্তেরা অধিক সুখী! তো সেটিই ভগবান শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাবের অন্তর্নিহিত গুহ্য কারণ... একজন ভক্তের কেমন অনুভূতি হয় তার অভিজ্ঞতা লাভ করা। এবং ভক্তেরা কৃষ্ণের চেয়ে অধিক আনন্দ অনুভব করেন। এবং কৃষ্ণ কেবল রাধারাণীর ভাব এবং অঙ্গকান্তি গ্রহণ করে সেই অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। তো যখন তিনি এখানে নবদ্বীপে আসেন যা রাধারাণী কর্তৃক সৃষ্ট, তিনি গৌরাঙ্গ রূপে আসেন! এবং রাধারাণী গৌরাঙ্গী নামে পরিচিত। তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গী! তো গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গী। ভগবান শ্রীচৈতন্য রাধারাণীর ভাব গ্রহণ করেন। এটি একটি গুহ্য কারণ। তাঁর বাহ্যিক কারণ ছিল হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে / হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে কীর্তনের যুগ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা। হরে অর্থ ভগবানের শক্তি। হরে কৃষ্ণ অর্থ রাধা এবং কৃষ্ণ। তো আমরা এখানে এই রাধাষ্টমী উদযাপন করি। এটি একটি অত্যন্ত বিশাল ব্যাপার, নবদ্বীপ ধাম রাধারাণী কর্তৃক সৃষ্ট। এবং সর্বশক্তি, সমস্ত শক্তির উৎস রাধারাণী এখানে সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিতা। যেমনটি বলা হয়েছে বৃন্দাবন হল কৃষ্ণের আবাস; কিন্তু নবদ্বীপ রাধারাণীর। তো মায়াপুরে আমরা একটি বিশেষ উপায়ে রাধাষ্টমী উদযাপনের প্রয়াস করি।
আমরা প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, "কেন আমরা কেবল দুপুর পর্যন্ত উপবাস করি?" তিনি বললেন, "রাধারাণী কৃপাময়ী।" তাই তিনি আমাদের মধ্যরাত পর্যন্ত উপবাস করিয়ে রাখেন না।"
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ,
শুক্রবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩,
শ্রীধাম মায়াপুর।
শুক্রবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩,
শ্রীধাম মায়াপুর।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন